শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।

কক্সবাজারে সিন্ডিকেট করে জমজমাট সালিশ বাণিজ্য

সালিশ বাণিজ্য, প্রতীকি ছবি।

এম এ সাত্তার:

বিচারের নামে অপসংস্কৃতি চালু থাকার ফলে দেশে অন্যায় অবিচার এবং খুনখারাবি সহ নানান অপরাধ বেড়ে গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষপাতিত্ব, কিছু থানা পুলিশের ঘুষ দুর্নীতি, আদালত পাড়ার অসাধু উকিল মুন্সির হয়রানির ও বিচারকার্যে দীর্ঘসূত্রতার কারণে জোর-জুলুমের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ স্থানিয় জনপ্রতিনিধি ও থানা কোর্ট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দ্রুত বিচার পাওয়ার আশায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তৃতীয় শক্তির দিকে ঝুঁকতে দেখা যাচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে না আসতে পারলে সহিংস হয়ে ওঠা মানুষকে সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন সচেতন মহল।

কক্সবাজার উপজেলা সদরসহ আশপাশ এলাকায় গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট বিচারকদের কয়েকটি চক্র। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষেত্রবিশেষে পেশিশক্তির দাপট দেখিয়ে সিন্ডিকেট সদস্যরা বিচার সালিশের নামে অসহায় নির্যাতিত মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভার কমবেশি ঘটনার বিচারকাজ তারা কব্জা করে নিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে সিন্ডিকেট সালিশ বাণিজ্যের কারণে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিরা কার্যত অচল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ গুলোর গ্রামীণ আদালতের প্রতি আস্থাহীন হয়ে পড়েন ভুক্তভোগী জনসাধারণ। সালিশ বাণিজ্যে নিয়োজিত কতিপয় সালিশকারীরা বর্তমানে থানা কেন্দ্রিক ছাড়াও গ্রামীণ জনপদের সর্বত্র সালিশ বাণিজ্য নিয়ে এখন বেপরোয়া। তাদের বেশিরভাগ সালিশ বৈঠকে উপস্থিত রাখা হয়না স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।

টাকার বিনিময়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো সালিশ বিচার করতে গিয়ে সংঘাত-সহিংসতা ও প্রতিপক্ষের হাতে খুন হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পাশাপাশি টাকার বিনিময়ে দেওয়া বিচারকগণের একতরফা রায় ডিগ্রির আলোকে ভুক্তভোগীরা বাস্তুভিটা জমিজমা হারাচ্ছে। এসব সালিশ বাণিজ্য বন্ধ না হলে আগামীতে গ্রামীণ আদালতের প্রতি ভুক্তভোগী জনগণ বিমুখ হয়ে পড়ার আশংকা প্রকাশ করছে নীতি নির্ধারকরা।

বিচারপ্রার্থীরা থানায় অভিযোগের পর, ওই অভিযোগ পুলিশের উপ-পরিদর্শক/উপ-সহকারী পরিদর্শককে তদন্ত করতে দেওয়ার পর, ওই অভিযোগ নিয়ে নোটিশ জারির মাধ্যমে সালিশ বৈঠক শুরু হয়। এসব বৈঠকে পরিচিত ১৫/২০ ব্যক্তি ঘুরেফিরে সালিশকার হয়ে বাণিজ্য করেন।

অধম্য সিন্ডিকেট সালিশ কারিরা দিন প্রতিদিনই বেপরোয়া হয়ে উঠছে। নারী নির্যাতন, গণধর্ষণ, জমি সংক্রান্ত স্পর্শকাতর কতিপয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোপনে আঁতাত করে অভিযুক্তদের নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সরল বিশ্বাসে কিছু সংখ্যাক বিচার প্রার্থী বা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সিন্ডিকেট বিচারকদের কাছে প্রতিকার চাইতে গিয়ে অবিচারের শিকার হয়ে কেউ শূন্য হস্তে, কারো জেল জরিমানা, কেউ প্রতিপক্ষের হাতে মারা পড়ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

আর যে অপরাধের দায়ে থানা কোর্টের মাধ্যমে অভিযুক্তের দৃষ্টন্তমুলক শাস্তির আশা পোষণ করেন সাধারণ মানুষ। সেই কঠিন শাস্তি থেকে অপরাধিরা গ্রাম্য মোড়লের বিচার সালিশের কারণে সহজেই পারপেয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অপরাধের বীজ গজিয়ে উঠেছে। সদা হট্রগোল এবং ঘুরেফিরে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়ে দিনদিন অপরাধের মাত্রা জ্যামেতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত ১২ জুন শনিবার দিবাগত রাতে পিএমখালীর ২নং ওয়ার্ড ছনখোলা নয়াপাড়া এলাকার বার্মায়া আবদুল কাদের, নুরজাহান বেগমের মেয়ে প্রিয়ামনি (১৯) ৪ যুবক দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয়। ওই ধর্ষণের সাথে জড়িতরা হচ্ছে, ১। গুইন্যার পুত্র হামিদ (২৮) ঘোনার পাড়া, ২। এরশাদ আলীর পুত্র ধলায়া (১৯), ৩/ মোহাম্মদ হোছনের পুত্র কালায়া ঘোনাপাড়া পেইল্লা কাটা তোতকখালী,(২০), অজ্ঞাত একজনের পাওয়া যায়নি নাম ঠিকানা।

এ ঘটনার পর থেকেই একটি মহল এটিকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে আসছিলো বলে জানা যায়। এ ধরনের জঘন্য ঘটনায় এভাবে দেশের প্রচলিত আইন-আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে গুরুতর অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।ধর্ষণের ঘটনা সমাধানের উদ্দেশ্যে ১৫ জুন বুধবার সালিশ বৈঠক করে মহিলা মেম্বার খালেদা আক্তারের বাড়িতে। অভিযুক্তদের কাছ থেকে নন-জুডিশিয়াল খালী স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর গ্রহণ করত: পরর্বতী দিন তারিখ ধার্য করে সেদিন বিচারকার্য মুলতবি করেদেয় মেম্বার খালেদা।

২০ জুন সর্বশেষ ছনখোলা ঘোনাপাড়া কেন্দ্রিক একটি দোকানে এই ধর্ষণের বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। সালিশে ধর্ষকদের ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ১ জুলাই বৃহস্পতিবার জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়েছে।
মেম্বার খালেদা আক্তার, গোলাপাড়ার মাহমুদুর করিম, তোতকখালীর নেজাম উদ্দিন বাবুল, লাল বাহাদুর, আঞ্জু আরা, ছনখোলা ঘোনাপাড়া এলাকার হারুনুর রশিদ, মেম্বার রমজান আলী এই সালিশে নেতৃত্ব দেন। এ সময় গ্রামের অন্যান্য সাহেব সর্দারগন উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ষনের মতো জঘন্য ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মনীরুল গিয়াসের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করে সালামের জবাব দেবার পরেই সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে চাইলে ফোন কেটে দেয়ায় বিস্তারিত জানাযায়নি।

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION